Money Exchange

খুচরো ডলার বিক্রি করুন

বিকাশ-এ পেমেন্ট নিন মুহূর্তেই

Fast Exchange

মেটার নতুন 'AI পেন্ডেন্ট'!

 

স্মার্টফোনের পর এবার আপনার গলার কম্পিউটার: মেটার নতুন 'AI পেন্ডেন্ট'!

একটি ছোট গোলাকার ডিভাইস, যা আপনার গলায় ঝুলে থাকবে। সামনে মেটার লোগো, পেছনে ক্যামেরা আর মাঝে একটি মাইক্রোফোন। আপনি সারাদিন যা বলবেন, যা শুনবেন সবকিছু এই ডিভাইসটি রেকর্ড করবে এবং AI-এর মাধ্যমে সেটিকে একটি 'সার্চেবল মেমোরি'তে রূপান্তর করবে। এটিই হলো মেটার পরবর্তী বড় বাজি: AI Pendant।

এটি কি সায়েন্স-ফিকশন?

না, এটি এখন বাস্তব। এই প্রযুক্তির পেছনে আছে 'Limitless' নামের একটি স্টার্টআপ, যা মেটা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কিনে নিয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, এই স্টার্টআপটির পেছনে বিনিয়োগ করেছিলেন স্বয়ং ChatGPT-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান এবং সিলিকন ভ্যালির প্রভাবশালী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানি আন্দ্রেসেন হরোউইটজ (A16z)। এখন সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে মেটা তাদের নিজস্ব ভার্সন তৈরি করছে, যার টেস্টিং শুরু হবে ২০২৭ সালে।

মেটার এই সাহসের কারণ হলো তাদের AI চশমার (Ray-Ban Meta) অবিশ্বাস্য গ্রোথ।

> ২০২৩–২৪ (দুই বছর মিলিয়ে): বিক্রি হয়েছিল মাত্র ২০ লক্ষ।

> ২০২৫: এক বছরেই বিক্রি হয়েছে ৭০ লক্ষ!

> ২০২৬ লক্ষ্য: মেটা বছরজুড়ে মোট ২ কোটি ইউনিট উৎপাদন ক্ষমতায় পৌঁছাতে চাইছে।

এটি এখন আর কোনো শখের জিনিস নয়, বরং স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে মূলধারায় চলে আসছে।

এই চমৎকার প্রযুক্তির সাথে আসছে বিশাল ঝুঁকি। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে মেটার বিরুদ্ধে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল কোর্টে একটি বড় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, মেটার কর্মীরা AI ট্রেনিংয়ের নামে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত ফুটেজ (এমনকি ব্যক্তিগত মুহূর্তের দৃশ্যও) দেখছিলেন। পাশাপাশি UK-এর তথ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা (ICO) মেটার এই 'সবসময় রেকর্ড করা' এবং বায়োমেট্রিক ডেটা সংগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে তদন্ত শুরু করেছে।

মেটার পরিধানযোগ্য প্রযুক্তির কৌশলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। যেমন, তাদের নতুন AI Pendant কথোপকথন রেকর্ড করা, মিটিং সামারাইজ করা এবং একটি সার্চেবল মেমোরি তৈরির কাজ করবে। পাশাপাশি ২০২৬ সালে AI Glasses-এর ৪টি নতুন মডেল বাজারে আসার কথা রয়েছে। মেটা তাদের AI ফিচারের জন্য Meta One Subscription চালু করছে, যার মাসিক খরচ হবে ৭.৯৯(প্লাস) এবং ১৯.৯৯ (প্রিমিয়াম)। এছাড়া অফিসের কাজের জন্য তারা Wearables for Work নামে একটি বিশেষ সাবস্ক্রিপশন টায়ার নিয়ে আসছে।

মার্ক জাকারবার্গ বিশ্বাস করেন, স্মার্টফোনের পরের কম্পিউটিং প্ল্যাটফর্ম হবে পরিধানযোগ্য ডিভাইস। ফোন আমাদের পকেটে থাকে, চশমা থাকে চোখে, আর পেন্ডেন্ট থাকবে গলায়। প্রতিটা পদক্ষেপে মেটা আপনার আরও কাছে আসছে।

> ডেটা যখন পণ্যঃ মেটা এখন জানে আপনি ফেসবুকে কী লাইক করেন বা হোয়াটসঅ্যাপে কাকে মেসেজ দেন। পেন্ডেন্ট চালু হলে তারা জানবে আপনি সারাদিন কী বলেন, কার সাথে কী কথা বলেন এবং কী নিয়ে চিন্তা করেন।

আমরা এখনো মেটার বেশিরভাগ সার্ভিস ফ্রিতে ব্যবহার করি। কিন্তু এই পেন্ডেন্ট যখন আসবে, তখন সেই 'ফ্রি'-র মূল্য হবে আপনার সারাদিনের ব্যক্তিগত কথোপকথনের ডেটা।

অ্যাপলের আইফোন ছিল পকেটের কম্পিউটার। এখন যুদ্ধ হচ্ছে শরীরের কম্পিউটার কে বানাবে। অ্যাপল ওয়াচ আছে কব্জিতে, মেটা চশমা আছে চোখে, আর এখন পেন্ডেন্ট আসছে গলায়। মেটা হার্ডওয়্যার বিক্রির চেয়ে আপনার ডেটার ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, কারণ আপনার সারাদিনের কথা থেকে যে AI মডেল তৈরি হবে, তার মূল্য ট্রিলিয়ন ডলার।

মনে রাখা জরুরি👇

> টেস্টিং পর্যায়ঃ মেটা Limitless-এর হার্ডওয়্যার বন্ধ করে দিয়েছে, কিন্তু সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করেই নিজস্ব নতুন AI Pendant তৈরি করছে যার টেস্টিং শুরু হবে ২০২৭ সালে। তাই এখনই হাতে পাওয়ার সুযোগ নেই।

> গোপনীয়তাঃ সবসময় রেকর্ড করা একটি ডিভাইসের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং আইনি বাধা অনেক বেশি।

> স্যাম অল্টম্যানের বিনিয়োগঃ তিনি লিমিটলেস-এ ব্যক্তিগতভাবে বিনিয়োগ করেছিলেন, এটি ওপেনএআই-এর কোনো অফিশিয়াল সিদ্ধান্ত ছিল না।

আপনি কি এমন কোনো ডিভাইস গলায় পরবেন যা আপনার সারাদিনের সব কথা রেকর্ড করবে?

নাকি এটি আপনার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য হুমকি মনে করছেন? কমেন্টে জানান! 👇

আর এমন Exclusive Tech, AI, and Social Media News পেতে ফলো করুন এবং পোস্টটি শেয়ার ও সেভ করুন 🙏

#meta #AIPendant #zuckerberg #PrivacyMatters #techspypro

Post a Comment

Previous Post Next Post